sonargaonpost.com
ঢাকাMonday , 24 July 2023
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলামিক
  5. এক্সক্লুসিভ
  6. খেলা-ধূলা
  7. চাকুরি
  8. ট্যুরিজম
  9. দূর্ঘটনা
  10. পড়াশোনা
  11. প্রবাস
  12. ফিচার
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. রাজনীতি
 
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুদান সংঘাত : ১০০ দিন পরও যুদ্ধ থামার লক্ষণ নেই

Editor: মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন সুমন
admin
July 24, 2023 10:40 am
Link Copied!

আফ্রিকার সুদানে গৃহযুদ্ধের ১০০ দিন পেরিয়ে গেলেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, সংঘাতে লিপ্ত উভয় পক্ষই বরং যুদ্ধক্ষেত্রের বিস্তৃতি দেখতে চায়। সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড রেসপন্স ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি শুরু হওয়া যুদ্ধে দেশটির রাজধানী খার্তুম কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

যুদ্ধকবলিত মানুষের মধ্যে ত্রাণ সরবরাহ করতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে বিভিন্ন দাতব্য ও মানবাধিকার সংগঠন।

একাধিকবার যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও তা দীর্ঘায়িত বা কার্যকর হয়নি। দেশের দুই বাহিনীর মধ্যে সংঘাতের জেরে দারফুরে জাতিগত সহিংসতার মাত্রাও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ। মারা গেছে অন্তত তিন হাজার বেসামরিক লোক।

সর্বশেষ গত শুক্রবার দারফুরের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের আবাসিক এলাকায় রকেট হামলা এবং উত্তর করদোফান প্রদেশে হাসপাতালের কাছে গোলাবর্ষণে অন্তত ২০ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। দেশটির চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস ইউনিয়ন জানিয়েছে, করদোফানের রাজধানী এল-ওবায়েদের চারটি হাসপাতালের অদূরে শুক্রবার সকালে গোলাবর্ষণে চারজন বেসামরিক লোক নিহত এবং ৪৫ জন আহত হয়েছে।

দক্ষিণ দারফুরের রাজধানী নিয়ালায় রকেট হামলায় অন্তত ১৬ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় আইনজীবীদের সংগঠন। তারা বলেছে, সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে রকেট যুদ্ধ চলার সময় শুক্রবার সকালে ১৬ জন নিহত হয়েছে।

তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে চোরাগোপ্তা বন্দুকধারীর (স্নাইপার) গুলিতে।

বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের সঙ্গে তাঁর একসময়কার মিত্র আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালুর দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত গৃহযুদ্ধে রূপ নিয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা চলার পর রাজধানী খার্তুমে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে সরাসরি লড়াই বেধে যায়। রাজধানীর বাইরেও বেশ কয়েকটি শহরে সংঘাত ছড়িয়েছে।

সেনাপ্রধানের অনুসারীরা রাজধানী খার্তুমের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে সেনাপ্রধানের বাসভবনে ব্যাপক হামলা চালায় আরএসএফ বাহিনী।

ঘটনাপ্রবাহ

এপ্রিল ১৬ : যুদ্ধের শুরুর দিকে তিন কর্মী নিহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সুদানে সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেয় জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডাব্লিউএফপি)। তবে গত ১ মে আবার কার্যক্রম শুরু করে সংস্থাটি।

এপ্রিল ২৫ : দারফুরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) পরোয়ানাভুক্ত আসামি সুদানের সাবেক মন্ত্রী আহমেদ হারুন ও ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তাদের কারামুক্তি।

মে ২০ : সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় মানবিক সহায়তা সামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করতে সাত দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফ। পরে দুই পক্ষই ওই চুক্তি লঙ্ঘন করে বলে অভিযোগ ওঠে।

জুন ১৪ : আরএসএফ ও সহযোগী মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনার কয়েক ঘণ্টা পরই পশ্চিম দারফুরের গভর্নর খামিস আব্বাকারকে হত্যা করা হয়। তাঁর মৃত্যুর পর হাজার হাজার বেসামরিক লোক প্রতিবেশী দেশ চাদ পালানোর চেষ্টা করে।

জুলাই ১৩ : সুদানে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতা করতে নতুন উদ্যোগ নেয় প্রতিবেশী মিসর।

জুলাই ১৪ : যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সুদান কনফ্লিক্ট অবজারভেটরি জানিয়েছে, দারফুরে অন্তত ২৬টি জনবসতিতে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য আরএসএফ ও এর সহযোগী বাহিনীকে সন্দেহ করা হচ্ছে। এর এক দিন আগে আইসিসি জানায়, তারা দারফুরে সহিংসতার তদন্ত করছে।

সূত্র : রয়টার্স, এএফপি