sonargaonpost.com
ঢাকাSunday , 30 July 2023
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলামিক
  5. এক্সক্লুসিভ
  6. খেলা-ধূলা
  7. চাকুরি
  8. ট্যুরিজম
  9. দূর্ঘটনা
  10. পড়াশোনা
  11. প্রবাস
  12. ফিচার
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. রাজনীতি
 
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইসলামের দৃষ্টিতে প্রাপ্ত বয়ষ্কদের হাফপ্যান্ট পড়া আধুনিকতা নয়- নির্লজ্জতা,অসভ্যতা, বেহায়াপনা এবং রুচির দুর্ভিক্ষ

Editor: মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন সুমন
Md.Mojammel Hossain
July 30, 2023 4:02 am
Link Copied!

প্রশ্নঃ পুরুষের সতরের সীমা কতটুকু?

উত্তরঃ
পুরুষের সতর নাভী হতে হাটু পর্যন্ত। ছালাত আদায়কালীন সময়ে দুই কাঁধ ও নাভী হতে হাটু পর্যন্ত (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৭৫৫; ছালাতুর রাসূল (ছাঃ), ৪৫ পৃঃ)। অবশ্য গোসলের সময় পুরুষরা উল্লেখিত অঙ্গ খোলা রাখতে পারে (বুখারী হা/২৭৮)। তবে পর্দার আড়ালে গোসল করা উত্তম। ইয়ালা ইবনু মুররা (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) খোলা স্থানে এক ব্যক্তিকে গোসল করতে দেখলেন। তিনি এই দৃশ্য দেখে মসজিদের মিম্বারে উঠে আল্লাহ্র প্রশংসা করলেন। অতঃপর বললেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ লজ্জাশীল ও পর্দাকারী। তিনি লজ্জা ও পর্দা করাকে ভালবাসেন। অতএব যখন তোমাদের কেউ গোসল করে, তখন সে যেন পর্দা করে’ (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৪৭, হাদীছ ছহীহ)।
“লেবাস যেন নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ অবশ্যই আবৃত রাখে। যেহেতু ঐটুকু অঙ্গ পুরুষের লজ্জাস্থান।” সহীহুল জা’মে হা/৫৫৮৩

পর্দা করা ফরয,বিষয় টা মাথায় রাখতে হবে
আমর বিন শুয়াইব তার সনদে বর্ণনা করেন, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-
‘পুরুষের নাভির নিচ থেকে তার উভয় হাটু পর্যন্ত হল সতর’। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৬৭৫৬)
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন,
‘পুরুষের সতর হল নাভি থেকে নিয়ে হাটু পর্যন্ত’। (মুসনাদুশ শামীন-১৪৩)
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাঃ থেকে বর্ণিত রাসূল বলেন,
‘পুরুষের সতর হল নাভির নিচ থেকে নিয়ে হাঁটু নিচ পর্যন্ত’।
(মসনদুল হারেস, ১-২৬৪, হাদীস নং ১৪৩)
রাসূল আরো বলেন।
‘কোন ব্যক্তি যেন কারো সতরের দিকে না তাকায় । নিশ্চয় নাভির নিচ থেকে নিয়ে হাঁটু নিচ পর্যন্ত সব কিছুই সতর’।
(সুনানে কুবরা লিল বাইহাকী, ২-৩২৪, হাদীস নং ৩২৩৫)
হযরত আলী রাঃ বলেন, রাসূল সাঃ বলেছেন-
‘হাঁটু সতরের অন্তর্ভুক্ত’।
(শরহে মসনাদে আবু হানীফা, ১-৫৫)
আল্লামা বুরহানুদ্দীন মরগনানী রহঃ বলেন।
‘এক জন পুরুষ অপর পুরুষের সারা শরীর দেখতে পারবে। নাভির নিচ থেকে নিয়ে হাঁটু নিচ পর্যন্ত ব্যতীত। কেননা, রাসূল বলেন, পুরুষের সতর হল নাভির নিচ থেকে নিয়ে হাঁটু নিচ পর্যন্ত।
(হেদায়া, ৪-৩৬৯)
আন-নতাফু ফিল ফাতওয়া এর মধ্যে আছে।
ف
‘পুরুষের সতর হল নাভির নিচ থেকে নিয়ে হাঁটু নিচ পর্যন্ত। সমস্ত উলামায়ে কিরামের নিকট নাভী সতরের অন্তর্ভুক্ত না। ইমাম শাফী রঃ এর নিকট নাভী সতরের অন্তর্ভুক্ত। ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর নিকট হাঁটু সতরের অন্তর্ভুক্ত ।এবং সেটা ইমাম শাফী রহঃ এর নিকট সতর না।
(আন-নতাফু ফিল ফাতওয়া, ১-৬০)
উল্লিখিত হাদীস ও ফুকাহায়ে কিরামের উক্তির আলোকে এ কথা প্রমানীত হয় যে, পুরুষের সতর হল নাভির নিচ থেকে নিয়ে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত। এবং নাভী সতরের অন্তর্ভুক্ত না আর হাঁটু সতরের অন্তর্ভুক্ত ।
এখন কথা হলো এক জনের সতর অপর জন দেখতে পারবে কি না?
শরহে মসনাদে আবু হানীফা এর মধ্যে আছে।
‘জানিয়া রাখ, অপর ব্যক্তি থেকে সতর ঢেকে রাখা ওয়াজিব। এবং এটার উপর সকল উলামায়ে কিরাম ইজমা হয়েছে’।
(শরহে মসনাদে আবু হানীফা, ১-৫৫)
তাই সকলের জন্য ওয়াজিব, অন্যের সামনে তার সতর ঢাকা ওয়াজিব।
আবার ফরজ ও ওয়াজিব একই অর্থবোধক। এ শব্দ দুটির অর্থ: আবশ্যক, অপরিহার্য, জরুরি। কেউ যদি ফরজ বা ওয়াজিব পরিত্যাগ করে তাহলে গুনাহগার হবে আর অস্বীকার করলে কাফের হয়ে যাবে।
তবে একদল ফকীহ এ দুটি শব্দের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তাদের মতে, ফরজ থেকে ওয়াজিব তুলনামূলকভাবে কম মর্যাদার। কেউ ফরজ অস্বীকার করলে কাফির হয়ে যাবে কিন্তু ওয়াজিব অস্বীকার করলে কাফির হবে না বরং ফাসিক হবে।
অনেক হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়, এ দুটি শব্দের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। কেননা, কখনো কখনো রাসূল সা. ফরজ বুঝাতে ওয়াজিব শব্দ ব্যবহার করেছেন। এ মর্মে বহু হাদীস রয়েছে। তাই ১ম মতটিই বরং সর্বাধিক সঠিক।
এছাড়াও
নবী (স) বলেছেনঃ “কোনো পুরুষ যেন অপর পুরুষের এবং কোনো নারী যেন অপর নারীর সতর (লজ্জাস্থান) না দেখে। আর কোনো পুরুষ যেন অপর পুরুষের সাথে এক কাপড়ের নিচে না ঘুমায় (পৌঁছে)। আর কোনো নারীও যেন অপর নারীর সাথে এক কাপড়ের নিচে না থাকে।”
সহীহ : মুসলিম ৩৩৮, তিরমিযী ২৭৯৩, আহমাদ ১১৬০১, ইরওয়া ১৮০৮,